স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। শরীর যদি ভালো না থাকে তাহলে কোন কিছুতেই মন বসানো যায় না। অনর্থক হয়ে যায় সব কিছুই। কেননা এই স্বাস্থ্যই যদি ভালো না থাকে তাহলে আপনি কি সুখে থাকতে পারবেন? কোন ভাবেই সম্ভব না। তাই সবার আগে চাই সুস্থ শরীর। শরীর সুস্থ রাখার জন্য আমাদেরকে কিছু বিশেষ নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয় যা সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
স্বাস্থ্য ভালো রাখার টিপসঃ
১.প্রতিদিন কমপক্ষে দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা উচিত ৷ তবে মিষ্টি মিশ্রিত পানীয় নয় অর্থাৎ কোলা, ফান্টা বা এ জাতীয় কিছু নয় ৷
ফাস্টফুডকে ‘না’ বলুন। ফাস্টফুড না প্রক্রিয়াজাত খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয় ৷ কারন এগুলোতে লুকিয়ে থাকে প্রচুর পরিমাণে চিনি এবং নানা রকম ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান ৷ যেটা স্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
২.প্রতিদিন ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটুন ৷ ঘাম ঝরিয়ে হাঁটার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে। হাঁটাহাটি বা ব্যায়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে ৷
৩.প্রতিদিন খাবারের মেনুতে সবুজ সবজি ও মাছ রাখুন এবং ফল খেতে ভুলবেন না। খাবার গ্রহনের সময় কখনোই একবারে বেশি খাবেন না। অল্প করে খান, তবে একটু পর পর।
৪.কাজের মঝে অবশ্যই টি ব্রেক নিন। কারণ একটানা কাজ করতে গেলে কিছুটা হলেও শরীরে চাপ পড়ে। এক জায়গায় দুই ঘন্টার বেশি সময় বসবেন না, দুই ঘন্টা পর পর একটু হাঁটাহাঁটি করুন।
৫.সবসময় রান্না করার সময় খাবারে লবণের ব্যবহার কম করুন। সলিড ফ্যাট খাবার, যেমন- ফাস্টফুড, ঘি, মাখন, চিজ ইত্যাদি খাবার থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
৬.প্রতিদিন নির্দিষ্ট টাইমে ঘুমাতে যান এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠুন।
৭.নিয়মিত নিজের ওজন, ব্লাড প্রেশার, শরীরে গ্লুকোজ এর পরিমাণ চেক করুন। মাসে অন্তত একবার রেগুলার চেকআপ এর জন্য ডাক্তার এর কাছে যান।
ঘরোয়া উপায়ে কিছু জটিল সমস্যার সমাধানঃ
১.নানাগুণের অধিকারী মধু। অসাড়তা, গলাব্যথা, মানসিক চাপ, রক্তস্বল্পতা, অস্টিও পোরেসিস, মাইগ্রেনসহ নানা শারীরিক সমস্যায় মধু বিশেষভাবে কার্যকর।
২.পেঁয়াজ হাঁপানি রোগীদের শ্বাসনালীর সংকোচন রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
৩.পেটের পীড়ায় আদা বেশ কার্যকর। আদা মর্নিং সিকনেস এবং বমি বমিভাব দূর করে।
৪.ঠাণ্ডায় রসুন খেলে অনেকটা উপশম পাওয়া যায়।
৫.ঠোটেঁ কালো ছোপ পড়লে কাঁচা দুধে তুলো ভিজিয়ে ঠোটেঁ মুছবেন। এটি নিয়মিত করলে ঠোটেঁর কালো দাগ উঠে যাবে।
৬.কনুইতে কালো ছোপ দূর করতে লেবুর খোসা দিয়ে ভালো করে ঘষে নিন। এতে দাগ চলে গিয়ে কনুই নরম হবে।
৭.মাথাব্যথা হলে প্রচুর মাছ খান। মাছের তেল মাথাব্যথা প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর।
৮.স্ট্রোক প্রতিরোধ চা পান করুন। নিয়মিত চা খেলে ধমনীর গাত্রে ফ্যাট জমতে পারে না। ফলে ঝুঁকি কমে আসে অনেকখানি।
৯.মুখের ব্রণে রসুনের কোয়া ঘষে নিন ব্রণের উপর। ব্রণ তাড়াতাড়ি মিলিয়ে যাবে।
১০.চুল পড়া বন্ধ করতে মাথায় আমলা, শিকাকাই যুক্ত তেল লাগান।
১১.যাদের হাত খুব ঘামে তারা লাউয়ের খোসা হাতে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন ।
১২.অতিরক্ত শুষ্কতা থেকে মুক্তি পেতে মধু, দুধ ও বেসনের পেষ্ট মুখে লাগান নিয়মিত। এতে ত্বকের বলিরেখা ও দূর হয়ে যাবে।
১৩.পায়ের গোড়ালি ফাটলে পেঁয়াজ বেটে প্রলেপ দিন এ জায়গায়।
১৪.হাত পায়ের সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রাখতে হাতে ও পায়ে আপেলের খোসা ঘষে নিন। এতে হাত ও পা অনেক বেশী ফর্সা দেখাবে।
১৫.মুখের বাদামী দাগ উঠাতে পাকা পেঁপে চটকে মুখে লাগান, পরে ধুয়ে ফেলুন।
১৬.নিঃশ্বাসের দুগন্ধ থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত দুই কোয়া করে কমলালেবু খান।
নিজের প্রতি খেয়াল রাখুন, সাথে পরিবারের সবার প্রতি যত্নশীল হন।

Comments
Post a Comment